বিশ্বকাপ ফুটবল ১৯৯০

এক

চার বছর পরপর একবার বিশ্বকাপ ফুটবল হয়, আমাদের এমনি পোড়া কপাল এইচএসসি পরীক্ষা আর খেলা, একই সময় পড়ল। সারারাত খেলা দেখে সকালে পরীক্ষা দেয়া কঠিন হবে, সুতরাং আইন জারি হল “খেলা দেখা যাবে না”। আমাদের ব্যাচ এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফল করেনি, তাছাড়া দুষ্টের শিরমনি সুতরাং আমাদের কারণে সবার খেলা দেখা বন্ধ।

আমাদের ব্যাচের লোকজন প্রথমে খুব একটা পাত্তা দিলনা, এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়ে খেলা না দেখাইতো ভাল! কেউ কেউ একটু খুন-খুন করে নিয়ে শেষ অব্দি মেনে নিল।

এর মধ্যে খবর এলো , আমাদের পরীক্ষার সেন্টার বাহিরে হবার সম্ভাবনা আছে। বাহিরের কলেজের শিক্ষকদের ধারণা ক্যাডেটরা তাদের নিজেদের কলেজে পরীক্ষা দেয়, ভেতরে বসে কি কি করে কে জানে! এসব কারণে এরা ভাল রেজাল্ট করে। তারা অনেকদিন থেকেই এই পরিবর্তন চাইছিল। আমরা সম্ভাব্য এই পরিবর্তনে মহাখুশি। আনন্দে পড়াশুনা ছেড়ে দিলাম। দুইদিন পর খবর এল নিরাপত্তার কারণে এটা করা যাচ্ছেনা। আমরা হতাশ হয়ে আবার পড়াশুনা শুরু করলাম। পরীক্ষার আর মাত্র দুইদিন বাকি।

বাহিরের কলেজের শিক্ষকগন ভাবতেও পারবেন না বাহিরে পরীক্ষা হলে ক্যাডেটরা কি পরিমান খুশি হবে। আমাদের পরীক্ষা হয় একটি অডিটোরিয়ামে। ৪০০ লোকের বসার মত পরিসরে মাত্র ৫০ জন পরীক্ষা দেয়। গ্রিল দিয়ে ঘেরা থাকে পুরো এরিয়া, বাথরুম তার ভেতরে। পরীক্ষা শুরুর আগে দেয়াল রং করা হয়, ডেস্ক ও চেয়ারে বার্নিশ দেয়া হয়। এক বেঞ্চে বসে দুজন পরীক্ষা দেব ভাবতেই বিস্ময় বোধ করলাম। আমাদের সর্বোচ্চ যা দরকার হত তা হল লিখতে লিখতে দুই একটা পয়েন্ট ভুলে যাওয়া, এর বেশি কিছু নয়। কিংবা অংকের রেজাল্ট মেলানো।

পরিক্ষার দিন প্রায়-নগ্ন করে চেক করে ঢোকানো হয় সেই অডিটোরিয়ামে। সামনে থাকেন তিনজন ইনভিজিলেটর, পেছনে দুজন। এর মধ্যে সরকারি আমলা আর নানা রকম টিমের আনাগোনাতো আছেই। মরার উপর খাঁড়ার ঘা প্রতিদ্বন্দ্বী কলেজ থেকে আসা একজন ইনভিজিলেটর, তাঁর যন্ত্রণায় টেঁকা দায়।

অপরাধী থাকলে পুলিশের অসীম ক্ষমতা, না থাকলে বেচারা ক্ষমতা দেখাবেন কিভাবে? সুতরাং হম্বিতম্বি সার। অনেকে এই পর্যন্ত শুনেই দুম করে বলে বসতে পারেন তাহলে আপনাদের নকল করার ইচ্ছে আছে, সুযোগ নেই! উত্তর “না”। এই রোমাঞ্চ শুধু বাহিরে যাবার জন্যে। যারা বন্দি থেকেছেন তারাই জানেন মুক্তির আনন্দ কিরকম দেখতে।

পড়াশুনার এইসব ক্ষতি নিয়ে আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনোনিবেশ করলাম।


দুই

খেলা শুরুর দিন খেলার সময় যতই কাছে আসতে লাগলো ততই আমাদের অস্থিরতা বাড়তে লাগল। বাহার আমাদের কলেজের ঘোষিত ম্যারাডোনা। সে হাউসে হাউসে পাক খেতে লাগল। একটু ব্যাখ্যা করা দরকার, বাহারের দুলাভাই ছিলেন ইকনমিক্সের শিক্ষক। কমেন্ট্রি করতে গিয়ে একদিন এই ঘোষনা দেন, যেহেতু বাহার অসাধারণ একজন খেলোয়াড় ওটা স্থায়ী হয়ে গেল।

আমাদের আরেকজন সেরা খেলোয়াড় ছিল বদরুল। আমাদেরই প্রিয় বন্ধু, বাহার শের-ই-বাংলা হাউসের আর ও সোহরাওয়ার্দী হাউসের। অতি ভাল ছেলে। শাদামাটা মাটির মানুষ ছিল বিধায় কখনই সামনে আসত না। গোল পোষ্টের কাছে পরাস্ত গোল কিপারের অসহায় মুখের সামনে বল পাস করে দিত আরেকজনে কাছে।

কলেজ জীবনের শেষ দুই খেলায় তাকে আমি লোভ দেখালাম যদি হ্যাট্রিক করতে পারে একটা চাবির রিং উপহার দেব। চাবির রিং খুবই পছন্দ করে সে। নিশ্চিত রিঙের জন্য নয়, পর পর দুই খেলায় দুইটি হ্যাট্রিক করেছিল সে। চাবির রিংটা আজো দেয়া হয়নি। এরপর আমরা কলেজ থেকে চলে আসি, সেরকম করে আর দেখা হয়নি। এখন সে বিদেশে থাকে, যোগাযোগ সামান্য, শুধু মেইলে।

পয়েন্টে আসি, ইতিমধ্যে একজন বলেছেন গল্প করতে গিয়ে আমি অন্য বিষয়ে প্রচুর কথা লিখি। বাহার মুখ চুন করে একতলা, দোতলা, তিনতলা করতে লাগল। ফয়েজ অতি ভাল ছাত্র, এসএসসি তে ষ্ট্যান্ড করেনি, এবার না করলে আমাদের মান থাকেনা। খেলা প্রিয় মানুষ সে, খেলা না দেখে থাকা সম্ভব কিনা এটা নিয়ে মনে হয় নিজেই গবেষণা করতে লাগল। বাকিদের অবস্থাও কমবেশি একই।

অন্য ক্লাসের ছাত্ররা মনে মনে গালি, আর মুখে অনুযোগ দিতে লাগল, যেন আমরা সেধে পরীক্ষার এই তারিখ ফেলেছি। কিন্তু খেলা দেখতে চাইলেইতো আর খেলা দেখা যায় না, তার জন্য টিভি নামক চারকোনা বস্তু লাগে! আমাদের তিনটি কমনরুম তালা মেরে রাখা হয়েছে।


তিন

প্রথম খেলার দিন কে কিভাবে কমনরুম খুলেছে মনে নেই, আমরা খেলা দেখতে পেরেছিলাম। পরেরদিন শিক্ষকরা আমাদের সাথে খেলা নিয়ে আলাপ করতে এসে দেখলেন আমরা সবই জানি। বুঝলেন আমরা খেলা দেখেছি। একটা মিটিং করলেন, সিদ্ধান্ত হল কমনরুম বন্ধ থাকবে, হাউস টিচারগন খেয়াল রাখবেন।

পরেরদিন কমনরুম বন্ধ থাকবে জেনে অনেকগুলো দরজার মধ্যে যেগুলো কখানোই খোলা হয় না তার একটি আমরা খুলে রাখলাম। হাউসের শিক্ষক আর সহকারীগণ সামনের দিকের সব দরজা ভালো করে লাগালেন, কিন্তু ঐ দরজাগুলোর কাছে গেলেন না। রাতে যথারীতি খেলা দেখা হল। সকালে আমাদের কথাবার্তা শুনে শিক্ষকদের মুখ লম্বা হয়ে গেল। অন্য ক্যাডেট-দের চোখে ইর্ষার কটাক্ষ।

দুই/চার দিন এভাবে চলার পর আমাদের আক্কাসআলী স্যার মাঠে নামলেন। আক্কাস স্যার আমাদের ক্লাসের ক্যাডেট রানার বাবা, অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী হাউসের হাউস মাষ্টার । হাউস মাষ্টার-রা খুবই ক্ষমতাবান ব্যক্তি। আক্কাসআলী স্যার প্রবীন হওয়ায় তার ক্ষমতা আরো বেশি। উনি বাংলা ডিপার্টমেন্টের হেড, কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য ইত্যাদি।

রানার বাবা হওয়ায় আমাদের অসুবিধা ছিল অনেক, উনাকে অনেক বেশি মেনে চলতে হত, আমাদের দিকে তাঁর দৃষ্টি ছিল কড়া, ভাল করতে হবে। শাসনের ব্যাপারে উনি ষোল আনা কড়া হলেও আমাদের কখনো কোন সুবিধা দেননি। উনার হয়তো মনে হত, আমাদের ব্যাচের জন্য কিছু করলে অন্যরা ভাববে উনার ছেলের জন্যই উনি এটা করছেন, সে কারণেই তাঁর সারা জীবনের সততার দেয়ালে উনি দাগ লাগতে দেননি। এদিকে বেচারা আমরা চ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছি।

আক্কাস স্যার তাঁর স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে হম্বিতম্বি করে হাউস এ্যাসিসটেনন্ট-দের ডেকে নিয়ে বললেন ঠিকভাবে বন্ধ করলে কিভাবে ওরা খেলা দেখে? এ্যাসিসটেনন্ট-রা মাথা চুলকে হতাশ কন্ঠে বলে

-বিশ্বাস করেন স্যার বিষয়ডা আমাগো মাতায় ঢুকতাছে না।
-মাথায় ঢুকবে কি করে তোমাদের মাথায় গোবর
-স্যার ছাত্ররা মনে হয় যাদু জানে
-যাদু! দেখাচ্ছি সব ম্যাজিশিয়ানদের ……………………।।

সে তালা নিজে টেনে দেখলো। সামনের দরজা গুলোর লক দেখলো। পরেরদিন স্যারের মাথা খারাপ হবার যোগাড়। ক্যাডেট-রা খেলা দেখেছে! কিকরে সম্ভব?

আমরা সোহরাওয়ার্দী হাউসকে বেছে নেবার পেছনে একটা কারণ ছিল, গভীর রাতে খেলা হয়, শিক্ষক বা স্টাফরা হাউস পরিদর্শনে আসলে সংখ্যায় একদুজনের বেশি হবেন না, স্যারদের তিনতলা পর্যন্ত আসতে বেশ সময় লাগবে, পালানোর জন্য অনেকটা সময় হাতে পাওয়া যাবে।

সেদিন রাতে স্যার এসে সব দরজা চেক করলেন, আমাদের গোমড় ফাঁক হল। খুলে রাখা দরজা আবিস্কার করে আনন্দে এক চিৎকার দিয়ে সে জানান দিল, “যাদু, যাদু-টোনা, ম্যাজিক এই দেখ ম্যাজিক, সেই সাথে হাউস এ্যাসিস্টেন্টদের বকা ঝকা কেন তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না?

আমাদের মাথায় বজ্রপাত হবার যোগাড়, এখন কি হবে? গভির রাতে নানান ফন্দি করছি, এই সময় কে যেন একটা বাঁশের মাথায় একটা বাঁকা করা জিনিষ বানিয়ে নিয়ে এল। সেপ্টিপিনের মত একটা তামার তারকে বাঁকা করে মাথায় সুতা লাগিয়ে একটা হুকের মত করে জানালা খোলা হল, তারপর ঐ বাঁশের যন্তর ঢুকিয়ে সিটকিনি খোলা হল। আনন্দের সাথে খেলা দেখা চলতে লাগল।

আক্কাস স্যার সদর্পে ঘোষণা করেছেন তিনি ক্যাডেটদের তেলসমতি ধরে ফেলেছেন! আমরা আমাদের পরাজয় মেনে নিলে পরের খেলাগুলো নির্বিঘ্নে দেখতে পারি। কিন্তু পরাজয় মেনে নেই কি করে? শত হলেও আমরা বিসিসি ৭ম ব্যাচ! আমাদের কেউ কেউ বলা শুরু করল স্যার আপনি ওই গোলটা দেখেছেন? স্যার অমুক প্লেয়ারের ওই পাসটা ঠিক হলে এই গোলটা হত, তাই না স্যার? নিখুঁত এই বর্ণনা শুনে স্যারের ভ্রূ কোঁচকাল। তোমরা জানেল কি করে?


 

চার

ক্যাডেট কলেজের ছেলেরা সারা বছর একটা নিয়মে পড়াশুনা করে বলে, পরীক্ষার সময়টাতে খুব বেশী টেনশন করতে হয়না। আর পুরো সিলেবাস পড়া থাকে বিধায় প্রশ্ন কমন পড়বে কিনা এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না। সুতরাং পরীক্ষা আমরা ভালোই দিচ্ছিলাম। ক্যাডেট কলেজে প্রচুর পরীক্ষা হয় বিধায় পরীক্ষা ভীতি বলে কোন ব্যপার থাকেনা।

একদিন একটা কান্ড হলো। আমাদের অডিটরিয়ামের পাশেই সুন্দর ফুলের বাগান। সেই বাগান থেকে পরীক্ষার হলে একটা বড় গুইসাপ ঢুকে গেল। বাংলা পরীক্ষা। আজকের দিনের মত অবজেক্টিভ ছিলনা তখন। বাংলা লিখতে লিখতে হাতে ফোস্কা পড়ে যেত। এদিকে ক্যাডেট-রা চিৎকার দিয়ে চেয়ারের উপর পা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষকদের মাথা খারাপ হবার যোগাড়।

খবর পেয়ে এডজুটেন্ট তার বাহিনী নিয়ে এলেন, হাউস মাষ্টারগন দৌড়ে এলেন। কিছুক্ষন পর আক্কাস স্যার টের পেলেন।

“এইচএসসি পরীক্ষার হলে শয়তানি! আজ বাংলা পরীক্ষার দিন সময় নষ্ট!” এক চিৎকার। আক্কাস স্যার প্রথম ব্যক্তি যিনি বুঝতে পেরেছেন আমরা ভয় পাইনি, দুষ্টামি করছি। অন্যসব শিক্ষকদের হুশ হয়েছে ততক্ষণে। তারা আহা, আহা আজকের দিন এইরকম শয়তানি করে? লিখ, লিখ, লিখা শুরু কর! বলে আফসোস করতে লাগলেন।

ইনভিজিলেটর সাহেব মুচকি হাসতে লাগলেন, বাছাধন কিভাবে লেখা শেষ করো দেখি। পরীক্ষা ভালো হল। সারা কলেজে আমাদের এই চরম বোকামীর খবর চাউর হল। দুপুরে, লাঞ্চ করতে ডাইনিং-এ গেছি। আক্কাস স্যার সেখানে উপস্থিত হয়ে বললেন, দেখেছ তোমরা এদের কান্ড! আমরা যখন বাংলা পরীক্ষা দিয়েছি, পরীক্ষার পর হাত থেকে কলম আর খুলতে পারিনা। দুজন টেনে সেই কলম খুলেছে, আর এরা!

উনি কিছুতেই বাংলার প্রতি আমাদের এই আমুদে হাল্কা মনোভাব সহ্য করতে পারছিলেন না। কেউ কেউ আবার বলা শুরু করলো তার পরীক্ষার সময় ডাইরিয়া হয়েছে, কারো জ্বর। এইসব কান্ডের মধ্যে আবার ফুটবল। শিক্ষকদের ঘুম হারাম। আক্কাস স্যারের বেশি, কারণ রানাও পরীক্ষা দিচ্ছে। যেভাবে হোক খেলা দেখা বন্ধ করতে হবে।


 

পাঁচ

শিক্ষকগণ মহা বিরক্ত হয়ে, টিভি নিয়ে হাউস মাষ্টারের রুমে তালা বন্ধ করলেন। এই রুমে একটাই দরজা। খুবই গুরুত্বপূর্ণ সব কাগজপত্র, হাউস ফান্ডের লকার এসব থাকে, সুতরাং সেভাবেই রাখা হয়। হাউস মাস্টার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে জানালা দরজা লাগালেন। চাবি পকেটে পুরে বাড়ি চলে গেলেন। আমাদের মাথায় হাত।

রাত নয়টা পর্যন্ত ভালোই পড়াশুনা হল। সেদিন গুরুত্বপূর্ণ খেলা। ফয়েজ, শওকত, হায়দার-আমরা মিলে খেলা দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিভাবে তখনও জানিনা। ভয়ংকর সব আইডিয়া মাথায় এলো। ভোর রাতে খেলা। আমরা নয়টার দিকে মাঠে নামলাম। উপর তলার দুই হাউসে হাউস মাষ্টারের রুমে ব্যাংকের মত একটি লোহার পাত বসিয়ে তিনটি করে তালা মারা। সেগুলো খোলার চেষ্টা করলে ডাকাতির মামলায় পড়তে হবে। সুতরাং শরীয়তউল্লাহ হাউস-ই ভরসা। এটি আমাদের হাউস।

হায়দার আবিষ্কার করল এই তালা লাগানোর পর দুই কড়ার মাঝখান দিয়ে কিছুটা ফাঁক হয় যার মধ্যে কিছু একটা ঢোকান সম্ভব। আমাদের এইসব উদ্যেগ দেখে অন্য ব্যচের ছেলেরা নানান মন্তব্য করতে লাগল।

“আজকে আর আপনাদের জারিজুরি খাটবেনা, বাদ দেন” আজকে যদি খেলা দেখতে পারেন, সারা জীবন আপনাদের গুরু মেনে নেব…………………এই সব। তালাটা বেশ বড়, কড়াগুলো মোটা, আমরা সিনেমার মত তার ঢুকিয়ে তালা খোলার চেষ্টা করলাম, ঘর্মাক্ত, বিরক্ত এবং ত্যাক্ত হয়ে হতাশ হয়ে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ। এই সময় শওকত বুদ্ধি বের করল, যদি কড়ার পেছনের নাট খোলা যায় তাহলে খেলা দেখা সম্ভব। নাট খোলার জন্য যন্ত্রপাতি দরকার। বাহারকে খবর দেয়া হল, ও এসে পানির পাম্প থেকে সব নিয়ে এল। দুলাভাইর দৌলতে ওকে সবাই চেনে। খুব বেগ পেতে হয়নি।

এখন সমস্যা হল ঐটুকু ফাঁক গলে হাত ঢুকবে কি করে? হায়দার ইট, কাঠের টুকরা এইসব এনে দরজার ফাঁক দিয়ে ঢুকিয়ে ফাঁকা একটু বড় করল। তার মধ্যে দিয়ে কিভাবে যেন ফয়েজ, শওকত আর রইস হাত দিয়ে নাট খোলার চেষ্টা করতে লাগল। দীর্ঘ দুই ঘন্টা চেষ্টা করে নাট খোলা হল। ওদের হাতের অবস্থা যা হল তাতে পরীক্ষার কথা ভেবে চিন্তা হবার কথা।

টিভি বের করে নিয়ে গেলাম সোহরাওয়ার্দী হাউসে। দুটো কারণ এক, পালানোর সময় এবং দুই এন্টেনার তার। প্রস্তুতি শেষ হল। ভোর রাতে খেলা দেখে, রাতেই আবার টিভি হাউস রুমে রেখে লক করা হল। কিন্তু ভাল টাইট দেয়ে গেলনা।

মরার মত ঘন্টা দুই ঘুমিয়ে গেলাম পরীক্ষা দিতে। পরীক্ষার পর শুরু স্যারদের সাথে খেলা নিয়ে আলোচনা। সেদিন জুনিয়র টিচার ছিলেন ডিউটি মাস্টার তিনি বিস্ময়ে হতবাক, তো…ম…রা… আই মিন…তো…ম…রা কি করে জানলে এসব? ধরা পড়েছিলাম আরো কয়েকদিন পর। সেটা ঐ নাটের কারণে। কিন্তু সেটা যে আমরা করেছি তার কোন প্রমান ছিলনা।

মিস করি সেইসব দিন……………………………………………………………।

Advertisements

One thought on “বিশ্বকাপ ফুটবল ১৯৯০

  1. জানি না says:

    হুম আগে জানতাম না তুমি আমার মতো পাঠকের জন্য লিখো । জেনে ভালো লাগলো …. পরে ভালো লাগলো ….

    তবে ৯০ এর খেলা দেখার জন্য আমাকে এতো মজার কষ্ট করতে হয় নি …. প্রথম খেলা আর্জিনটিনা vsক্যামেরুনের মধ্যে ছিল….খেলা দেখার পর আমার জন্য খেলা রেকর্ড করা শুরু হলো …. বাসায় বললাম রেজাল্ট জানার পরে খেলা দেখে কোনো মজা নাই…. কাজেই সব খেলা দেখতে পেরেছিলাম…. কিন্ত পরীক্ষা খারাপ হয়েছিল…. পরীক্ষা ভালো হলেই বা কি হতো জানি না এখনো যা করছি , পরীক্ষা ভালো হলেও তাই করতাম……

    Liked by 1 person

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: