গোল্লা স্যার।

 এক

ক্যাডেট কলেজ জীবনের প্রথম ক্লাস করতে এসেছি। একটা ঘোর ঘোর ভাব, অনেক প্রশ্ন, অনেক কৌতুহল, অনেক স্বপ্ন, অনেক অনেক ভয়। এখানকার শিক্ষকরা ক্যামন? তারা কি অন্যভাবে পড়ান? এখানকার সব শিক্ষক যে আকাশ থেকে নেমে আসা একেক জন প্রমিথিউস এব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ ছিলনা। তাদের ধী শক্তি তাদের বিচক্ষণতা, তাদের চরিত্র সব-ই রূপকথার সব সুপারনায়কের মত এটা বলার বা ভাবার কি আর অবকাশ আছে? নিজেকে আরিয়ান হয়ে ওঠা একজন ভাগ্যবান মানুষ বলে মনে হল। চিন্তা করতে করতেই ক্লাসের ঘন্টা পড়ল। অপেক্ষার উত্তেজনা শেষ করে একজন শিক্ষক ক্লাসে ঢুকলেন। আমাদের বসে বসে এ্যাটেনশন হতে হল।

শিক্ষকটির গায়ের রঙ ফর্শা। মাথাটা বিশাল, সেখানে বড় একটা টাক চক চক করছে। কপালে দিনের আলোর প্রতিফলন স্পষ্ট দেখা যায়। ঘাড় নেই। বিশাল মাথা সরাসরি কাধের উপর বসানো। বুক, পেট, নিতম্ব সব সমান। কোন ভাজ নেই। উচ্চতা পাঁচ ফুটের বেশি হলে অবাক হব। ফ্রেঞ্চ কাট দাঁড়ির মধ্যে ঢেউ খেলানো লাল টক টকে ঠোঁটে হাসি।

ক্যাডেটস আমার নাম নুরুজ্জামান মোল্লা। আমি তোমাদের অংক পড়াবো। তারপর ত্রিশ মিনিট ধরে একটা জ্যামিতি পড়ালেন। পড়ান শেষ করে জানতে চাইলেন কারো কিছু বলার আছে? কোন প্রশ্ন? আমি ক্লাসে কখনো কোন কথা বলিনা। উত্তর জানলেও বলিনা, মুখচোরা, কনফিডেন্সের অভাব, কিংবা অনাগ্রহ অথবা ভয়; এগুলোর যেকোন একটি অথবা সবগুলোই এর কারণ হতে পারে।

আমি হাত তুল্লাম, এবং একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম। মোল্লা স্যার খুব সুন্দর করে ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিলেন। আমি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ব্যবহারে মুগ্ধ। প্রশ্নোত্তর শেষ হবার পর বসে পড়াই নিয়ম। আমি স্যারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বসলাম। মোল্লা স্যার ডাস্টার হাতে নিয়ে সহজভাবে আমার কাছে আসলেন। ঘন্টা পড়ে গেছে। পরের শিক্ষক শাদা শার্ট, শাদা প্যান্ট, কালো জুতা আর বিশেষ কলেজ টাই পড়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে।

কিছু বুঝে উঠবার আগেই মোল্লা স্যার ঝাঁপিয়ে পড়লেন। আমার বিস্মিত চেহারা নিচু করে ধরা, গদাম গদাম করে ডাষ্টারের পিটুনি পড়তে লাগল। প্রথমে চুল ধরার চেষ্টা করলেন, সুবিধা করতে পারলেন না। প্রথমদিন এনেই বাটি ছাঁট দিয়েছে। চুল খুব ছোট করে কাটলে কান খুব প্রমিনেন্ট হয়ে যায়। জুত করে কান ধরলেন। দুই কান টমেটোর মত লাল করতে করতে জানতে চাইলেন, আমার বাবা কি করেন। আমি বললাম আর্মি অফিসার। উনি আরো কয়েকটা কিল ঘুষি মেরে বলতে লাগলেন ওও ইন্টারমিডিয়েট পাশ লোকের ছেলে! এই জন্যে আমাকে পরীক্ষা করে, আমি অংক জানিনা? অংক জানে তোর বাপ? সাপের মত হিস হিস আর ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলতে লাগলেন কথাগুলো। আমাকে পরীক্ষা করা, আমাকে…… বুঝিয়ে দেব মজা…………।

যে শিক্ষক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আমি তার দিকে বিস্ময়ের সাথে তাকালাম। তিনি কি বুঝলেন জানিনা। বললেন মোল্লা সাহেব ছাড়েনতো বাচ্চা ছেলে। আজ প্রথমদিন! মোল্লা স্যার আমাকে ছাড়লেন কিন্তু তার ফোঁস ফোঁস বন্ধ হলনা। আর মুখে একই প্রলাপ ‘আমাকে পরীক্ষা করা, এত বড় সাহস’ বলতে বলতে বেড়িয়ে গেলেন। পুরো ক্লাস হতভম্ব। নিশ্চুপ। আমি তখনো বুঝতে পারছিনা কি হয়ে গেল। ক্যানো হয়ে গেল।

আমি নিজেকে পড়ে অনেক জিজ্ঞাসা করেছি, সেদিন প্রশ্নটা আমি কেন করেছিলাম? আমার মনে হয়েছে, এই যে ক্লাসে আমি ভয় পাই, কথা বলিনা, কিংবা অংশ নেইনা এই খারাপ গুণ আমি এখানে এসে বদলাতে চেয়েছিলাম। মোল্লা স্যার বুঝলেন কিছু অতিচালাক ছাত্রের মত আমিও নতুন শিক্ষকের পরীক্ষা নিচ্ছি, কেমন পড়ায় কিংবা কতটুকু জানে। সেদিনকার সেই আচরণে আমি কখনই আর বলতে পারলাম না ‘আবার শুধরে নেব জীবনের ভুলগুলি’ আমি আরো ঢুকে গেলাম নিজের ভেতরে। বদলে গেল কলেজের পরের সাতটি বছর।

 

 দুই

কেউ যদি মনে করে থাকেন মোল্লা থেকে গোল্লা শব্দের উৎপত্তি তাহলে মহাভুল করবেন। গোল্লা, মোল্লা স্যারের অতি প্রিয় শব্দ, কথায় কথায় এই শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। তিনি অংকের শিক্ষক গোল্লা শব্দের প্রতি দূর্বলতা থাকা স্বাভাবিক। পদার্থবিদ্যা, দর্শন ও অংক শাস্ত্রে ‘শূন্য’ সংখ্যা নিয়ে বিচিত্র শব্দ হাইপোথিসিস আছে। পৃথিবীর সব বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই সংখ্যা নিয়ে নানান অবসেশন কাজ করে। অনেকে বলেন ‘শূন্য’ থেকে কোন কিছুর জন্ম হতে পারেনা। অথচ সংখ্যা তত্বের জন্মই ‘শূন্য’ থেকে। এটাকে মেনে নিলে আমাদের বিজ্ঞানের অনেক থিওরি বাতিল হয়ে যায়। আবার মেনে না নিলে বিজ্ঞান বলেই কিছু থাকেনা!

এই ‘শূন্য’-সম্পর্কে তাও ফিলসফিতে কিছু মজার লাইন আছে। (based on nothingness)

• The thirty spokes unite in the one nave; but it is on the empty space (for the axle), that the use of wheels depends.

• Clay is fashioned into vessels; but it is on their empty hollowness, that their use depends.

• The door and windows are cut out (from the walls) to form an apartment; but it is on the empty space (within), that its use depends.

মোল্লা স্যার এত কিছু ভাবতেন কিনা জানিনা। কিন্তু ‘গোল্লা’ উনার সবচেয়ে প্রিয় শব্দের একটি। শিক্ষকরা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে কিছুটা বোধ হয় স্যাডিস্ট হয়ে যায়। কেউ গোল্লা পেতে পারে এই আনন্দে মোল্লা স্যারকে যেরকম উচ্ছসিত দেখতাম সেটা ভয়াবহ। এই একটা শব্দ ছিল তার প্রিয় কৌতুক আর আনন্দের বিষয়। হাসতে হাসতে বলতেন ‘পরীক্ষায় গোল্লা পেলে কিন্তু খাতা বালিশ গোল করে বিদায়!’

আমার জীবনে প্রথম দিনই যেমন একটা ঘটনা ঘটে গেল, মোল্লা স্যারের জীবনেও এরকম একটি ঘটনা আছে। স্যারের ট্রান্সফার হয়েছে। প্রথম দিন স্যার ক্লাস নিতে ঢুকেছেন। এক হাতে চক, অন্য হাতে ডাষ্টার নিয়ে দুলতে দুলতে হাসি মুখে ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ির মধ্যে থেকে খুব নাটকীয়ে ভঙ্গিতে বললেন ‘ আমার নাম নুরুজ্জামান মোল্লা’ একটি ছেলে পেছন থেকে বলল ‘আমি একটি ছড়া বলবো’ ক্লাসে হাসির রোল পড়ে গেল।

আমাদের ছোটবেলায় বিটিভি-তে নতুন কুঁড়ি নামে বাচ্চাদের একটা অনুষ্ঠান হতো। খুবই জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানে ছড়া বলার সময় বলতে হতো ‘আমার নাম ……আমি একটি ছড়া বলবো’ বাচ্চারা এই কথাটা বলতো একটু টেনে টেনে, মজা করে। মোল্লা স্যারের নাম বলার মধ্যে সেই ব্যাপারটা ছিল, বেচারা ক্যাডেট দ্বিতীয় লাইনটা বলার লোভ সামলাতে পারল না। কি আর করা, মোল্লা স্যার ডাষ্টার দিয়ে পিটিয়ে সেই ছেলের মাথা ফাটিয়ে দিলেন। রক্তারক্তি কারবার। তাকে হাসপাতালে এডমিট করে দেয়া হয়েছিল।

ডাস্টার দিয়ে পিটিয়ে হাসপাতাল পাঠান একটা সাধারণ ঘটনা ছিল। আমারটা সে তুলনায় ডালের সাথে ভাত খাওয়ার চেয়েও সহজ, ভাতের সাথে নুন খাওয়ার মত ঘটনা।

 

তিন

ক্লাস এইটে কে সায়েন্স পড়বে কে আর্টস পড়বে এটা নির্ধারণের জন্য মোল্লা স্যার একটি বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করলেন। সাত বছরে আমার দেখা মোল্লা স্যারের সবচেয়ে আনন্দিত সময়। কে কে গোল্লা পাবে এই ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। গোল্লা পাবার পর কি কি হবে সেই বর্ণনায় তিনি মুখর। পরীক্ষা যত কাছে আসতে লাগল তার আনন্দ তত বাড়তে লাগল।

সব ছেলেরা, বিশেষভাবে আমার মত খারাপ ছাত্ররা পুলসিরত পার হবার আশংকায় ডায়রিয়া হয়ে যাবার জোগাড়। যদিও আমার জীবনে খুব বেশি এম্বিশন কখনই ছিলনা, সায়েন্স বা আর্টস কোনটাই আমার জন্য কোন ব্যাপার না। সমস্যা হল আমার সায়েন্স পড়ার যোগ্যতা নেই বলে আমাকে আর্টস পড়তে হচ্ছে এই জিনিষ হজম করা কঠিন ছিল। যথা সময় পরীক্ষা হল। প্রশ্নপত্র দেখে মাথাঘুরে পড়ে যাবার মত অবস্থা। পরীক্ষা খুব খারাপ দিয়ে, মুখ কালো করে হল থেকে বেড়িয়েছি। নিজের উপর রাগ লাগতে লাগল, সারা জীবন পড়াশুনা কিছুই করলাম না। এক ধরনের অপমান এবং অপরাধবোধে ডুবে গেলাম।

পরীক্ষার পর পরই ছুটি। ঢাকাতে এলাম। একদিন উনাকে মোল্লা স্যারের গল্প বললাম, আর্মি অফিসারের এইচএসসি পাশ করা লোকের সন্তান বলায় যে কত অপমান বোধ করেছি, এটা বললাম।

ক্যাডেট কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে ডিফেন্স অফিসারদের প্রতি তীব্র ঘৃণা কাজ করে। ক্যাডেট কলেজগুলো ডিফেন্সের টাকায় চলে, শিক্ষকদের নিয়োগ হয় আর্মি হেডকোয়ার্টারের তত্বাবধানে। কলেজে শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা অতুলনীয়। সৎ পয়সায় জীবন যাপন করার জন্য আদর্শ চাকুরী। তারপরও এটা কি করে মজ্জাগত হয়ে গেল কে জানে! আমি সিওর ক্যাডেট কলেজগুলো পরিচালনা করার পিছনে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি-র কিছু ব্যাপার কাজ করে। অথচ এইসব স্ট্র্যাটিজিস্ট-রা জানেই না, তাদের ক্যাডেট-রা প্রশিক্ষিত হচ্ছে কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে যারা তাদের ঘৃণা করে।

আমার বাবা সব শুনলেন কিছুই বললেন না। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষকদের বাব-মার উপরে স্থান দেয়া হয়েছে সবসময়। বাবা-মা যতই শিক্ষিত হোননা কেন, এবং শিক্ষক যতই জটিল হননা কেন, অবস্থানের নড়চড় হয়না। সুতরাং আমাকে ক্যাডেট কলেজে শিক্ষকদের অনেক ভালদিক দেখালেন। এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবার যোগ্যতা রাখেন এটা বিশেষভাবে বোঝালেন। মোল্লা স্যার যে আমাদেরকে সন্তানের মত দেখেন, এবং সেই অধিকারে এসব বলেন এটা বোঝালেন। আমি বাবার প্রতিক্রিয়া দেখে হতাশ।

বেশ কয়েক বছর পরের কথা। আমাকে উনি ডেকে উনার বড় কাঠের বাক্স থেকে উনার সার্টিফিকেট দিলেন। আর বললেন ‘সব গুণী মানুষই ভুল করতে পারেন। প্রতিটি ডিফেন্স অফিসার-কে একাডেমি-তে থাকতেই ব্যাচেলর ডিগ্রি নিতে হয়। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার মাষ্টার্স করার সার্টিফিকেট। তুমি আমার মার্কশিট দেখতে পার, পজিশনটা দেখলে তোমার ভাল লাগবে’।

তারপর একটু থেমে বললেন, একজন ডিফেন্স অফিসারকে সারা জীবন পড়াশুনার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, সেই পড়াশুনা বেশিরভাগ মিলিটারি আইন, ন্যাশনাল ষ্ট্র্যাটিজি, ট্যাক্টিক্স, যুদ্ধবিদ্যা, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ক হলেও, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা বিষয়েও আকাশ্চুম্বি ট্রেইনিং একজন অফিসারকে তৈরি করে। বললেন পিএসসি এবং এনডিসি করার গল্প। আমার মন থেকে অনেকদিনের একটা ভার নেমে গেল।

রেজাল্ট দিয়ে শেষ করি। মোল্লা স্যারকে দারুন হতাশ করে দিয়ে পাশ করলাম আমরা তিনজন- তারেক মন্সুর, আমি আর রেজওয়ান। ৩৩ জন পেয়েছে শূণ্য। বাকিরা ১ থেকে ৩৯।

Advertisements

2 thoughts on “গোল্লা স্যার।

  1. জানি না says:

    তোমাদের মোল্লা স্যারের গল্প পরে শহীদ আনোয়ার স্কুলের নুরজাহান টিচারের কথা মনে পরে গেল…. উনি আমাদের বাংলা সেকেন্ড পেপার নিতেন….. পর পর দুই বছর ওনার ক্লাস করতে হয়েছে …. একজন অন্যায় করলে পুরা ক্লাস কে ডাস্টার দিয়ে পিটাতেন…. কিন্ত কি এক অগ্যাত কারনে আমি মার খাই নি… মারতে মারতে যখন আমাকে মারতে এসেছেন তখন এমন ভাবে ওনার চোখের দিকে তাকিয়েছি যে উনি ডাসটার হাতে তুলে দারিয়ে কি মনে করে আমার পরের চারজনকে ও না মেরে আবার ও নেক্সট রোর প্রথম থেকে মেরে লাসট রোর লাসট মেয়ে কে পর্যন্ত মারতেন….. পরীক্ষার হলে ও উনি পরলে বিপদেই ছিল …. সেখানেও কোন ছারা ছারি নাই…..

    তবে উনি গালি দিতেন না ……

    গালি দিতেন খুব মিষ্ট ভাষায় …. তিনি ছিলেন ওয়াজেদ আলী খান স্যার….. পৌরনীত পরাতেন… সুযোগ পেলেই স্যারের জানো কি হতো ঘুরে ফিরে পুলিশের বদনাম করতেন…. একবার নাইনে পরি তখন … স্কুলে যাইনি ….. পরে যেদিন গেলাম আমার বনধু বাবুনী বলল আমাকে …. কালকে স্যার তুই না আসাতে বলছিল ….. আজকে নাসিমা আসেনি তাহলে তো আজকে পুলিশের বদনাম খুব ভালো ভাবে করা যাবে…… শুনে মেজাজ তিরিক্ষে উঠে গিয়ে ছিল… ক্লাস থেকে বের হলাম …. স্যার টিচার কমন রুমে বসতেন না …. লাইবেরীতে কয়েকজন টিচার বসতেন সেখানে বসতেন…. লাইবেরীতে ডুকে স্যার কে বললাম ….. স্যার আপনি একটু বাইরে আসবেন …. স্যার আসলেন ….. বললাম ….. স্যার আমি ক্লাসে না থাকলে কেনো বরং আমি ক্লাসে থাকা অবস্হায় পুলিশের বদনাম করতে পারেন….. এরপরে স্যার কে আর কোনো দিন পুলিশের বদনাম করতে শুনি নি……

    আমার জীবনে শূন্য টা অনেক বিরাট কিছু …. জীবন যুদ্ধে হেরে যেয়ে যখন সব কিছু শূন্যের কোঠায় নেমে আসে আমি তখন লাইফ পাই….. বিয়ের পরে কোন এক সময়ে যখন ব্যংকে টাকা শূন্যের কোঠায় তখন ও এক সপ্তাহ র মাথায় আমার একটা চাকরী হয়ে যায়… আমমা যদিও ২০১৬ তে মারা গেলেন কিন্ত আমার এমটি লাগতে শুরু হলো গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে ….. কাউন্সিলারের কাছে যাই যাই করে ও মনে হলো যাবো না …… তখন আবারো নিজেকে আবিসকার করা শুরু করলাম …… মেলবোর্ন থেকে সিডনি আসার ডিভিশন নিলাম ….. আমি নিজেকে আবিসকার করলাম পুরানো কিছু মানুষ কে ভেবেছিলাম মিস করবো না সব নতুন করে গরে নিবো …. কিন্ত তাদেরকে মিস করছিলাম …. পথ ঘাট মাঠ সবই মিস করছিলাম….. শূন্য থেকে আবার সব কিছু ফিরে পেলাম….

    Liked by 1 person

  2. জানি না says:

    কলেজের আরেক টা ঘটনা মনে পরে গেলো …,

    লজিক মিসের ক্লাস ….. মিসেস বারী কে দেখে ছি সব সময় এক লয় এক ই তাল আর একই সুরে কথা বলেন …. কখনো ভলিউম এর পরিবর্তন হয় না …. আর কথার শেষে কেমন জানি একটা টিস টিস আওয়াজ হয়…

    একশ জনের একটা ক্লাস ….প্রতি ক্লাসে রোল কল করা হয়…. দুটা দরজা আছে ..সেকেন্ড দরজার মাঝে একটা বিরাট গেপ দিয়ে বাকী পনচাশ জন আমরা বসি …. একদিন কি মনে করে রোল কল করার পরে মাথার মধ্যে পাগলামী পেয়ে বসলো ….. টিস টিস করা শুরু করলাম …. যদিও খুব আসতে ….. কিন্ত আমার মতো পাগল যে আরো রয়ে গেছে জানতাম না ….. কয়েক জন মিলে টিস টিস করে যাচছি…. মিস পরানো শুরু করেন তখন শুরু করি টিস টিস আর যেই থামেন আমরা থেমে যাই…..

    কিছুক্ষন করার পরে উনি একই তালে বলে উঠলেন মেয়েরা ….. সেটা ও কোন উচ্চ শব্দ না ……ক্লাসে হাসি শুরু হয়ে গেল….উনি এরকম পরিস্হিতিতে আগে পরেছেন কি না জানি না তবে উনি অনেক ক্ষন চুপ করে ছিলেন….. অন্য কোনো টিচারের ক্লাসে আমরা এরকম করতে পারতাম না …. সাথে সাথে শাস্তি নয় তো টিসি …. মিসেস বারী বলে হয়তো পেরেছিলাম …. আর উনি যদি জানতেন আমি এটা করছি খুব কসট পেতেন …. কারন লজিক আমি সব সময় highest number পেয়েছি ….. এই একটা সাবজেক্ট আমি কলেজে সব সময় highest পেতাম আর স্কুলে অংক তে ….. কিন্ত খুব আশ্চর্য যে আমি ssc তে অংকে লেটার পাই নি আর hsc তে লজিকে ও লেটার পাই নি …..

    মিসেস বারী সব সময় আমাকে highest দিলে কি হবে খাতা দেখতে দিয়ে আবরো উনি চেক করতেন তারপরে ৫ নাম্বার কেটে দিতেন …. হয় হাতের লিখা ভালো না …আর না হয় ক বিভাগ বা খ বিভাগ লিখি নি ….

    একদিন কি মনে করে সেকেন্ড ইয়ারের ক্লাসের মধ্যে জিজ্ঞেস করলাম ….. মিস আপনি সব সময় আমার নাম্বার কেটে দেন কেনো ….. উনি ভয়ংকর একটা কথা বলে ছিলেন….. হলি ক্রসে বোর্ডের পরীক্ষায় hsc তে ৯৬ highest উঠেছে ….. আমি চাই তুমি ৯৮ পাও…………

    Result is zero!

    Liked by 1 person

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s